
মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাজহানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাপক অনিয়ম ও পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পের বিল পাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।
উপজেলা পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে টিআর (৫৩টি), কাবিটা (৪২টি) এবং কাবিখা (২৪টি) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানো এবং তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পিআইও’র রহস্যজনক নীরবতায় তা মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র কাজ করে বা কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার তোড়জোড় চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পিআইও কার্যালয়ে বিল জমা দিতে হলে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০% কমিশনসহ এস্টিমেট, সাইনবোর্ড, মাস্টাররোল, স্ট্যাম্প ও অডিট বাবদ অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা করে দিতে হয়। এমনকি সরকারি নিয়ম না থাকলেও অবৈধভাবে ভ্যাট ও আয়করের নামে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভোটমারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে পূর্বের করা এইচবিবি রাস্তায় নতুন করে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৫০% বিল প্রদান করা হয়েছে। সংবাদপত্রে এ নিয়ে লেখালেখি হলে মাত্র ২০ মিটার কাজ করা হয়, যার খবর খোদ প্রকল্পের সভাপতিও জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে পিআইও মাজহানুর রহমানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বলেন, "আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। প্রকল্পের কাজ ১০০ মিটারের জায়গায় ২০ মিটার করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনিয়ম বন্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও কালীগঞ্জে দুর্নীতির পুরনো চিত্র বজায় থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। তারা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এম.এম/সকালবেলা